ঢাকা,  বৃহস্পতিবার  ০৩ এপ্রিল ২০২৫

নিউজ জার্নাল ২৪ :: News Journal 24

‘বন্দিশ ব্যান্ডিটস’ তাঁকে দুহাত ভরে দিয়েছে

মিথিল ফেরদেীস জোছনা

প্রকাশিত: ১২:০৪, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

‘বন্দিশ ব্যান্ডিটস’ তাঁকে দুহাত ভরে দিয়েছে

শ্রেয়া চৌধুরী। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

অ্যামাজন প্রাইমের ‘বন্দিশ ব্যান্ডিটস’ সিরিজের কল্যাণে অভিনেত্রী শ্রেয়া চৌধুরীর নাম ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। আনন্দ তিওয়ারি পরিচালিত এই সিরিজের দ্বিতীয় সিজন কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে। ‘বন্দিশ ব্যান্ডিটস’ প্রথম সিজনের মতো দ্বিতীয় সিজন একই রকম সফলতা পেয়েছে। মুম্বাই শহরের খারে অবস্থিত নির্মাতা, প্রযোজক, অভিনেতা ফারহান আখতারের অফিসে এই তরুণ অভিনেত্রীর মুখোমুখি হয়েছিলেন মুম্বাই প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্য

‘বন্দিশ ব্যান্ডিটস’ সিরিজের সফলতা প্রসঙ্গে এই গুণী অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘প্রথম সিজনের পর দ্বিতীয় সিজনেও মানুষ আমাদের একই রকম ভালোবাসা দিচ্ছেন। আমাকে অনেকে বড় বড় মেসেজ লিখে পাঠিয়েছেন। মেসেজগুলো পড়ে বোঝা যাচ্ছে, সবাই সিরিজটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। “বন্দিশ ব্যান্ডিটস” আমাকে অনুভব করিয়েছে যে আমি একজন অভিনেত্রী। আমি আপ্লুত।’একটু থামলেন। যোগ করলেন, ‘এই সিরিজ আমাকে দুহাত ভরে দিয়েছে। আর সবচেয়ে ভালো দিক যে “বন্দিশ ব্যান্ডিটস”-এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়েছে। এই সিরিজের প্রথম সিজন মুক্তি পাওয়ার পর অনেকে তাঁদের সন্তানদের শাস্ত্রীয় সংগীত শেখানো শুরু করেছিলেন। একজন শিল্পী হিসেবে এটা অনেক আনন্দের বিষয়। আর এই সিরিজের অংশ হতে পেরে আমি সত্যি গর্ব অনুভব করি।’

নিজের মায়ের একটি কথাও প্রসঙ্গক্রমে শোনান শ্রেয়া, ‘মা আমায় বলেছেন, এই সিরিজ করার সময় যা কিছু আমি শিখেছি, তা যেন সারা জীবন আগলে রাখি। আর আনন্দ (তিওয়ারি) স্যার বলেছিলেন, পুরো জনসংখ্যার মধ্যে আমরা সেই ১ শতাংশ মানুষ, যাঁরা এই সিরিজের অংশ হওয়ার সুযোগ পেয়েছি।

আনন্দ স্যারের মতে, এর চেয়ে বড় সফলতা আর কীই-বা হতে পারে। “বন্দিশ ব্যান্ডিটস” আমার সামনে অনেকগুলো দরজা খুলে দিয়েছে। এটাই আমার সফলতার কাহিনি বলতে পারেন।’

ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে এসেও নিজের জমি অনেকটাই পাকাপোক্ত করে ফেলেছেন শ্রেয়া। বিটাউনে তাঁর চেনাজানা কেউ ছিলেন না। তাই এই পথ কি শ্রেয়ার জন্য একটু কঠিন ছিল? মাথা নাড়িয়ে তিনি বলেন, ‘কঠিন কি সহজ, জানি না। এই পথ আমি নিজে বেছে নিয়েছি। আমার ভ্রমণকে পুরোপুরি উপভোগ করছি।

আর এই ভ্রমণের মধ্য দিয়ে আগামী দিনেও বাঁচতে চাই।’ এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘দেখুন, জীবন মানেই কঠিন। আর যেকোনো পথে চড়াই-উতরাই থাকবেই। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে সবাইকে নানান কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। তবে পরিশ্রমই শেষ কথা। জীবনে সাফল্য পেতে হলে পরিশ্রম করতেই হবে।’

তারকা নয়, শুধু অভিনেত্রী হওয়ার আশায় রাজস্থান থেকে মুম্বাইয়ে এসেছিলেন শ্রেয়া। শুরুতে মা–বাবার সমর্থন ছিল না। তবে তাঁর ভাই সবচেয়ে বড় সমর্থক ছিলেন। শ্রেয়া বলেন, ‘ভাইয়াই আমাকে আমার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তবে আজ আমার সাফল্যে মা–বাবা খুব খুশি।’

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা করতে ভালোবাসেন শ্রেয়া। আর তাই বরাবরই তিনি প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী। প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, ‘অভিনয়ের জগতে যাঁরা আছেন, তাঁরাই আমার প্রতিযোগী। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের সঙ্গেই আমার প্রতিযোগিতা। নিজেকে আরও ভালো করার প্রতিযোগিতা আমি অন্তর থেকে অনুভব করি।’

স্বল্প সময়ের অভিনয়জীবনে মনীষা কৈরালা, নাসিরুদ্দিন শাহ, অতুল কুলকার্নি, দিব্যা দত্তর মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেন শ্রেয়া। তাঁর ভাষ্যে, ‘তাঁদের সামনে থেকে দেখা মানেই তো এক অনন্য অভিজ্ঞতা। প্রত্যেকের থেকেই কিছু না কিছু শিখেছি। এসব অভিনেতার সান্নিধ্যে এসে অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছি।’

 

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন