
ছবি:নিউজ জার্নাল ২৪
গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ফল তরমুজের মৌসুম শুরু হয়েছে দ্বীপজেলা ভোলায়। বিশেষ করে রোজার মাসে ইফতারিতে তরমুজের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুষ্টিগুণ ও স্বাদে অতুলনীয় এ ফল শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, তাই রোজাদারদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
তবে বাজারে তরমুজের দাম নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে কেনা হলেও হাত বদলের সঙ্গে সঙ্গে দাম অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে মাঠপর্যায়ে প্রতি পিস তরমুজ যেখানে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ভোক্তাদের ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
ভোলার অন্যতম তরমুজের পাইকারি বাজার খালপাড় সড়ক এবং দিদার মসজিদ সংলগ্ন মাঠে জমে উঠেছে কেনাবেচা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন এখানে প্রায় অর্ধকোটি টাকার তরমুজ বেচাকেনা হয়। এখান থেকে তরমুজ ঢাকা, চাঁদপুর, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ দেশের অন্তত ১৪ জেলায় সরবরাহ করা হয়।
পাইকারি বাজারে প্রতি ১০০ পিস তরমুজের দাম ২৮ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে উঠানামা করছে। পরিবহনের জন্য ভ্যান, কাভার্ডভ্যান, অটোরিকশা ও ট্রলির মাধ্যমে দ্রুত বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে এই ফল।
কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক ড. শামিম আহমেদ জানান, এ বছর ভোলায় ১৩,৫৭০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ফলন ৫০ থেকে ৫৩ টন ধরে, জেলায় মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ মেট্রিক টন।
তরমুজের পুষ্টিগুণও বেশ চমকপ্রদ। এতে ৯২% জল, ৬% শর্করা ও বিভিন্ন ভিটামিন রয়েছে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, আর ভোক্তাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মৌসুম গড়ালে এবং সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে।